১। প্রতিষ্ঠার সন: ১৯৯০
বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ পরিচালিত
২। প্রতিষ্ঠাতা মন্ডলী /পরিচালক মন্ডলী:
১। শ্রীমৎ শুদ্ধানন্দ মহাথের (সভাপতি, বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ)
২। বাবু অমল কান্তি চৌধুরী (সমাজ সেবক ও সহ সভাপতি বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ)
৩। লায়ন ডা: মৃদুল বড়ুয়া চৌধুরী (সহ.সভাপতি, বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ)
প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস
বীর চট্টলার দক্ষিণ জেলাস্থ, বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের পুরোধা মাস্টার দা সূর্যসেন, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, আব্দুল করিম, সাহিত্য বিশারদের পূণ্যস্নাত, পটিয়া উপজেলাধীন পটিয়া পৌরসভার দক্ষিন সীমান্ত সংলগ্ন ১৪নং ভাটিখাইন ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের করল গ্রামে অবস্থিত একমাত্র নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান “করল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়”। এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার পিছনে সুদীর্ঘ কালের ইতিহাস না থাকলেও শিক্ষা-দীক্ষায় তার রয়েছে কৃতিত্ব ও তাৎপর্যপূর্ণ ইতিহাস ।
পল্লীজননীর অপার সুন্দর লীলাভূমি করল নিজস্ব স্বকীয়তায় পরিপূর্ণ একটি গ্রাম। স্বনামধন্য ব্যক্তিদের লালন এবং কীর্তিমানদের বিচরণ ক্ষেত্র এই গ্রাম। তৎমধ্যে অত্র এলাকার সূর্য্য সন্তান, বিশিষ্ট সমাজসেবক, সৃজনশীল কর্ম প্রতিভূ, আলোকিত ব্যক্তিত্ব, বাবু অমল কান্তি চৌধুরী এলাকার উন্নয়নে শৈশবকাল হইতে একজন নিবেদিত প্রাণ। এলাকার স্বনির্ভরতা অর্জনে তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ নারী শিক্ষার প্রসারে একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন লালন করে আসছিলেন। এ লক্ষ্য অর্জনে তিনি প্রথমেই তাঁর মাতা স্নেহলতা চৌধুরীসহ ভ্রাতাদের ও পরিবারের সকলের নিকট তাঁর প্রত্যাশার কথা জানালেন। তাঁর মা পুত্রের ইচ্ছায় অত্যধিক খুশী হলেন। তাঁর অনুপ্রেরণায় বাবু বিমলেন্দু চৌধুরী, লায়ন ডাঃ মৃদুল বড়ুয়া চৌধুরী, বাবু নিখিল চৌধুরীসহ সকলেই ঐক্যমত পোষণ করেন। পরবর্তীতে তিনি গ্রামের তথা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ সকলের মতামত গ্রহণ করেন। সকলেই অত্র এলাকায় একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তা উপলব্দি করে ঐক্যমত পোষণ করেন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি নানামুখী তৎপরতা চালাতে থাকেন। সরকারি-বেসকারী সাহায্য সংস্থার সহিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন, ইতি মধ্যে মহাসংঘনায়ক শ্রীমৎ বিশুদ্ধানন্দ মহাথের মহোদয়ের সুযোগ্য শিষ্য, বহু প্রতিষ্ঠানের জনক, কর্মবীর শ্রী মৎ শুদ্ধানন্দ মহাথের বিশ্ববৌদ্ধ সৌভ্রাতৃত্ব সংঘের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় করল গ্রামবাসী তাঁকে সংবর্ধনা প্রদান করেন। বাবু অমল কান্তি চৌধুরী এই রকম মোক্ষম সুযোগ হাত ছাড়া করতে চান না। তিনি গ্রামবাসীর সহায়তায় অত্র এলাকায় একটি বালিকা বিদ্যালয় দাবী করে শ্রীমৎ শুদ্ধানন্দ মহাথের মহোদয়কে একটি মানপত্র প্রদান করেন। তিনি উক্ত বিশাল সংবর্ধনা সভায় তাদের মহৎ আয়োজনে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সংবর্ধনার প্রত্যুৎত্তরে অত্র এলাকার আপামর জনসাধারণের ঐকান্তিক ইচ্ছা ও আবেদনের প্রেক্ষিতে এই অবহেলিত এলাকার নারী শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা সহ একটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করার ঘোষণা প্রদান করেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশী বৌদ্ধদের নেতৃত্বস্থানীয় সংগঠন “বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের কর্ম পরিষদে বিষয়টি উত্থাপন করেন। সর্বসম্মতিক্রমে উক্ত প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং মানব কল্যাণে নিবেদিত ”বিশুদ্ধানন্দ কল্যাণ প্রকল্পের” অধীনে একটি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের অন্যতম কর্মকর্তা অত্র অঞ্চলের কৃতি সন্তান, বিদ্যালয়ের স্বপ্নদ্রষ্টা বাবু অমল কান্তি চৌধুরীকে নতুন বিদ্যালয় স্থাপনের যাবতীয় কাজ সম্পাদনের জন্য দায়িত্ব অর্পন করা হয়। তিনি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, সামাজিক ও ব্যক্তিত্ব, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের জনসাধারণের মতামতের ভিত্তিতে করল গ্রামের উত্তর পূর্ব প্রান্তে করল ঠেগরপুনি সড়ক সংলগ্ন স্থানে বিদ্যালয়টি স্থাপনের স্থান নির্ধারণ করেন। উক্ত স্থানের ভূ-দখলীয় মালিকদের অভূতপূর্ব সাড়া ও সহযোগীতায় প্রয়োজনীয় জায়গা ক্রয় করা হয়। এলাকাবাসী বিদ্যালয়ের স্বার্থে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানে এগিয়ে আসেন। অবশেষে সকল প্রস্তুতি কাজ সম্পন্ন করত: ১৯৯০ সালে ১লা জানুয়ারী এলাকার স্বতঃস্ফুত উপস্থিতিতে বিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন মানবতাবাদী বৌদ্ধ মনীষা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক একুশে প্রদক প্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব, শ্রীমৎ শুদ্ধানন্দ মহাথের মহোদয়। বিদ্যালয়টি পরিচালনার জন্য “বিশুদ্ধানন্দ কল্যাণ ট্রাষ্ট্রের” অধীনে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসাবে তিনি সহ মোট ৫ সদস্য বিশিষ্ট পরিচালনা কমিটি গঠন করেন। শুরুতে স্থানীয় করল সুমঙ্গল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান করত: অল্প সময়ের মধ্যে পরিচালনা কমিটি দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণ ও সীমানা প্রাচীর ও তোরণ নির্মাণ প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র তৈরীসহ পাঠদান উপযোগী করে নিজস্ব বিদ্যালয় ভবনে পাঠদান কার্য শুরু করেন। পরিচালনা কমিটির সুদক্ষ পরিচালনার খুব কম সময়ের মধ্যে পাঠ দানের ক্ষেত্রে সুনাম, সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে ফলে ছাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। বিদ্যালয়টি সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী ০১/০১/১৯৯২ইং তারিখে মাধ্যমিক স্তরে বোর্ড স্বীকৃতি লাভ করে। সাথে সাথে ব্যানবেইস এম.পিও ভূক্তির যথাযথ শর্তপূরণ পূর্বক ০১/০১/১৯৯৪ ইংরেজী তারিখ নিম্নমাধ্যমিক স্তরে এবং ০১/০১/১৯৯৭ ইংরেজী তারিখে মাধ্যমিক স্তরে এমপিওভূক্ত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন হইতে অদ্যাবধি বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শ্রীমৎ শুদ্ধানন্দ মহাথেরসহ বিভিন্ন সময়ে, অসময়ে বিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সার্বিক সহযোগীতা দিয়ে যাচ্ছেন। সাথে সাথে বিভিন্ন সময়ে ট্রাষ্টের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে সুপরামর্শে বিদ্যালয়টি ক্রমান্বয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। বিদ্যালয়টি অত্র অঞ্চলের মধ্যে অবহেলিত ও অপেক্ষাকৃত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর নারী-শিক্ষার ক্ষেত্রে আলোক বর্তিকা হিসাবে পরিগণিত হচ্ছে। বর্তমান ছাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বিদ্যালয়ে বাড়তি- অবকাঠামো বা নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজন অনুভূত হয়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সরকারিভাবে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বারংবার প্রচেষ্ঠা সত্ত্বেও ব্যর্থ হয়। বিদ্যালয় ভবনের অভাব যখন প্রকট হয় তখন বিদ্যালয়ের অন্যতম দাতা সদস্য চৌধুরী পরিবারের কুলগৌরব অত্র এলাকার কৃতি সন্তান লায়ন ডাঃ মৃদুল বড়ুয়া চৌধুরী নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ৩০,০০,০০০/- (ত্রিশ লক্ষ) টাকা ব্যয়ে ২০০৯ সালে একটি নতুন বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করেন এবং ২৬,০০,০০০/- (ছাব্বিশ লক্ষ) টাকা ব্যায়ে ২০২১ সালে (50 ফুট – ২5 ফুট) লাইব্রেরী ভবন এবং মহীয়সী নারী হিসেবে খ্যাত মিসেস শেলী বড়ুয়া চৌধুরীর অর্থায়নে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও মিড ডে মিল ছাত্রীদের মাঝে প্রতিবছর সহ-পাঠ্যক্রমিক বই প্রদান করেন। এতে এলাকাবাসী ও ছাত্রীদের মধ্যে প্রাণ চাঞ্চল্যে ও সন্তুষ্টি ফিরে আসে। সুন্দর ও ছায়াঘেরা, কোলাহলমুক্ত পরিবেশে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। ছাত্রীদের নিরাপদ পথচলা এলাকাবাসীর সচেতনতা, বিদ্যালয়ের আঙ্গিনার সীমানা প্রাচীর, নিয়মশৃঙ্খলায় কঠোরতা, পাঠদানে আন্তরিকতা, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের অপূর্ব সমন্বয় রয়েছে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা মন্ডলী অত্যন্ত যত্নশীল ও দায়িত্ববোধের সহিত যুগোপোযোগী শিক্ষা দান করে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির এ যুগে শিক্ষা সহায়ক বিভিন্ন উপকরণের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও প্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষার প্রচার ও প্রসারে অত্র বিদ্যালয়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য। যদি বেসরকারী সাহায্য সহযোগীতার পাশাপাশি সরকারী অনুদান ও সাহায্য সহযোগিতা পর্যাপ্ত পাওয়া গেলে, ভবিষ্যতে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হবে এবং অত্র এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। বর্তমানে দানবীর লায়ন ডা: মৃদুল বড়ুয়ার নিজস্ব অর্থায়নে একটি লাইব্রেরী, সি.সি ক্যামেরা, আই.পি.এস স্থাপন করেন এবং প্রতি মাসে অর্থাৎ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাতের ব্যয়ভার বহন করেন। উল্লেখ্য যে মিসেস শেলী বড়ুয়া চৌধুরী সকল শিক্ষার্থীদের দুপুরের টিফিন নিজস্ব অর্থায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মিড ডে মিল প্রদান করে শিক্ষার্থীদের ক্ষুধা নিবারন করতে অনন্য ভূমিকা পালন করেন।
প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি
১। প্রতিষ্ঠানের নাম: করল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
(KARAL GIRLS HIGH SCHOOL)
গ্রাম-করল, ডাকঘর-পটিয়া, উপজেলা-পটিয়া, জেলা-চট্টগ্রাম।
VILLAGE- KARAL, P.O: PATIYA,U.Z- PATIYA, ZILLA- CHATTAGRAM
২। প্রতিষ্ঠাতা :
শ্রীমৎ শুদ্ধানন্দ মহাথের, বাবু অমল কান্তি চৌধুরী,
লায়ন ডা: মৃদূল বড়ুয়া চৌধুরী
বাবু অমল কান্তি চৌধুরী
ইউনিয়ন: ১৪নং ভাটিখাইন।
শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক প্রতিষ্ঠানের কোড :৩৯১০
প্রতিষ্ঠানের এমপিও কোড : ০২১৯২২১৩০১
উপবৃত্তি কোড : ১১৫৪৮৮৪
ই আই এন : ১০৪৭৪৮
এমপিও ভুক্তির তারিখ : ০১/০১/১৯৯৪ (নিম্নমাধ্যমিক)
:০১/০১/১৯৯৭ (মাধ্যমিক)
প্রতিষ্ঠার তারিখ : ০১/০১/১৯৯০ইং
প্রথম স্বীকৃতির তারিখ : ০১/০১/১৯৯২ (নিম্নমাধ্যমিক)
০১/০১/১৯৯৭ (মাধ্যমিক)
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ অনুমোদনের তারিখ
বিজ্ঞান বিভাগ অনুমোদন : প্রক্রিয়াধীন।